‘শুধু জাত অথবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনই বিজ্ঞানীর প্রধান কাজ নয়’
বিজেআরআই এ বার্ষিক কৃষি গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৩ অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এর সম্মেলন কক্ষে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় বিজেআরআই এর কৃষি গবেষণা উইং এর “বার্ষিক কৃষি গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৩”। এতে উৎপাদিত জমির পরিমাণ কেন কমে আসলো তা পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে উঠে আসে কৃষিতে প্লাস্টিক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং নতুন জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার কথা। সেগুলো শুনে ‘শুধু জাত অথবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনই বিজ্ঞানীর প্রধান কাজ নয়’ মন্তব্য করে সমস্যার সমাধানে সবাইকে এসসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয় এর যুগ্ম সচিব (গবেষণা অনুবিভাগ) রেহানা ইয়াসমিন।
বিজেআরআই মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক ড. নাথু রাম সরকার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেআরআই এর কৃষি উইং এর পরিচালক ড. নার্গীস আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উৎপাদিত জমির পরিমাণ কেন কমে আসলো তা পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এর যুগ্ম সচিব (গবেষণা অনুবিভাগ) রেহানা ইয়াসমিন বলেছেন, “কৃষির অন্যান্য ফসলের উৎপাদনের সাথে তাল মিলিয়ে পাট পিছিয়ে গেছে কিনা তা পরীক্ষা করা দরকার। পাট উৎপাদনের জমির পরিমাণ বাড়িয়ে পাটকে আরো বেশি জনপ্রিয়করণ করতে হবে। আর এটা দেখে ভালো লাগে যে, স্বাধীনতার পর থেকে পাটের উৎপাদনের জমির পরিমাণ কমলেও উৎপাদন অনেক পরিমাণ বেড়েছে।”
“প্লাস্টিক পণ্যের প্রতিযোগিতায় পাট পিছিয়ে গেলেও গোটা পৃথিবী এখন বুঝতে পারছে প্লাস্টিকের মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছি। সেজন্য গোটা বিশ্ব এখন সচেতন হয়েছে। সেই সচেতনতার সুযোগে পাট পণ্য রপ্তানিতে আমরা যে প্রথম স্থান অধিকার করেছি সেখানে আরো এগিয়ে আসতে হবে”- যোগ করেন রেহানা ইয়াসমিন।
তিনি আরো বলেন, “গোটা বিশ্বের ন্যায় আমাদেরকেও রাসায়নিক সার এর ব্যবহার কমাতে হবে। যেহেতু পাট শাকের পাতা আমরা সরাসরি শাক হিসেবে খাই, সেহেতু পাট শাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোন রাসায়নিক কি পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে সে ব্যাপারেও বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে। সরকার কাঁচা সবজি খাবার ব্যাপারে উদ্ভুদ্ধ করছে, তাই রাসায়নিকের ব্যবহার সম্পর্কে খুবই সচেতন হতে হবে। শুধু জাত অথবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনই বিজ্ঞানীর প্রধান কাজ নয়, ক্রেতার খাবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ড. মোঃ আবদুল আউয়াল বলেন, ৭৩ দেশ সিন্থেটিক কাপড় ব্যবহার না করার অঙ্গীকরা করেছে। ফলে পাটের চাহিদা বেড়ে গেছে। পাটের উৎপাদন বেড়েছে। ৭.৬৪ লক্ষ টন পাট চাষ হয়েছে।
পাটের মূল্য নির্ধারণ করতে পাট অধিদপ্তর ভূমিকা পালন করে, সেখানে বিজেআরআই এর কোনো প্রতিনিধি নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
“বোরো ধান, টি-জুট, টি-আমন, সরিষা এই ৪টি ফসলের ক্রপিং প্যাটার্ন এর প্রযুক্তি বিজেআরআই উদ্ভাবন করেছে,” তিনি বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. নাথু রাম সরকার বলেন, “আমরা জানি যে, পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও রপ্তানির দিক থেকে আমরা প্রথম এবং প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পাটের সাথে জড়িত।”
“আমরা এটাও জানি যে, প্রথম শিল্প বিপ্লব এর পর থেকেই পাট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এর তথ্যমতে আমরা পাট রপ্তানি করে গত বছর প্রায় ২.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করেছি এবং ২০২৭ সালের পাট রপ্তানির টার্গেট ধরা হয়েছে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”
তিনি আরো বলেন, “প্রত্যেক বিজ্ঞানীর কাজের ক্ষেত্রে কিছুনা কিছু চ্যালেঞ্জ থাকেই, সেটা আমাদেরকে মোকাবেলা করেই চলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কারিগরি উইং এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মোসলেম উদ্দিন, জুট টেক্সটাইল উইং এর পরিচালক ড. ফেরদৌস আরা দিলরুবা, পিটিসি উইং এর পরিচালক ড. মাহমুদ আল হোসেন, প্রশাসন ও অর্থ উইং এর পরিচালক ড. এস. এম. মাহবুব আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।







